Tuesday,January 20 , 2026

“থানকুনি পাতা: স্বাস্থ্য উপকারিতা, অজানা তথ্য এবং সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি”

 

পরিচিতিঃ

থানকুনি পাতা, যা Centella asiatica বা Gotu Kola নামে পরিচিত, একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। থানকুনি উদ্ভিদটি ছোট এবং ভূমির সাথে মিশে থাকে। এর পাতা সাধারণত বৃত্তাকার আকৃতির হয় এবং পাতার প্রান্তগুলো খাঁজকাটা। থানকুনি গাছে ছোট সাদা বা গোলাপি ফুল ফোটে।

 

উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যঃ

বৈজ্ঞানিক নামঃ Centella asiatica

পরিবারঃ Apiaceae

স্থানীয় নামঃ থানকুনি (বাংলা), মণিমূলা (ভারত), গোটু কোলা (শ্রীলঙ্কা)।

 

থানকুনি পাতার উপকারিতাঃ

আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ থানকুনি। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়।

১. চুল পড়ার হার কমেঃ

চুল পড়া নিরোধকারী পণ্যে অনেক সময় থানকুনির নির্যাস ব্যবহার করা হয়। এর অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

২. টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়ঃ

নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ হতে পারে আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা।

৩. ত্বকের ক্ষত সারাতেঃ

শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত থামাতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। থানকুনি পাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগালে ব্যথা উপশমের পাশাপাশি রক্ত পড়াও বন্ধ হবে।

৪. শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখতেঃ

অনেকের থ্রম্বোসিসের সমস্যা থাকে। এ ছাড়াও অনেকের শারীরিক সমস্যার কারণে রক্তপ্রবাহের সমস্যা দেখা দেয়। থানকুনি পাতার রস খেলে রক্ত বিশুদ্ধ থাকে। ফলে শরীরের প্রতি কোষে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায়। এতে শারীরিক নানা জটিলতা দূর হয়।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়ঃ

থানকুনি পাতার উপাদানগুলি ত্বকের পুষ্টি বাড়িয়ে বলিরেখা কমায়, স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং বুড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

 

৬. পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসেঃ

পেটের যে কোনো রোগ প্রতিরোধে থানকুনি পাতা ভীষণ উপকারী। আমাশয় থেকে আলসারের মতো রোগও নিরাময় হয় থানকুনি পাতার গুণে। এমনকি নিয়মিত  খেলে হজমজনিত সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে সহজেই।

৭. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিঃ

থানকুনি পাতা খেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পেন্টাসাক্লিক ট্রিটারপেনস মাত্রা বাড়ে, ফলে স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধির উন্নতি ঘটে।

ব্যবহার পদ্ধতিঃ

  • রস: থানকুনি পাতা থেঁতো করে এর রস পান করা যায়। এটি পেটের সমস্যা, যেমন গ্যাস্ট্রিক এবং ডায়রিয়া নিরাময়ে কার্যকর।
  • চা: দিয়ে চা বানানো যায়। থানকুনি চা স্ট্রেস দূর করতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়ক।
  • সালাদ: থানকুনি পাতা সালাদে ব্যবহার করা যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী এবং সহজে খাওয়া যায়।
  • পেস্ট: থেঁতো করে পেস্ট তৈরি করা যায়, যা ত্বকের সমস্যার জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট: থানকুনি পাতা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট বাজারে পাওয়া যায়, যা নির্দিষ্ট রোগের জন্য সেবন করা যেতে পারে।

ব্যবহারের সতর্কতাঃ

অতিরিক্ত সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, তবে সঠিক ব্যবহারে এটি স্বাস্থ্যসম্মত সহায়ক হতে পারে।

 

 

তথ্য ও সূত্রঃ অনলাইন সংগ্রহ।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ

Website Link: https://sororitu.com/

Facebook Link: https://www.facebook.com/sororitushop/?ref=embed_page

YouTube Link: https://www.youtube.com/@sororituhorticulture

About super_admin

Check Also

ঘরে সহজে চাষযোগ্য ঔষধি গাছ – স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাকৃতিক সমাধান

ঘরে সহজে চাষযোগ্য ঔষধি গাছ – স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাকৃতিক সমাধান

প্রাকৃতিক চিকিৎসা মানুষের জীবনে অতি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যখন আধুনিক ওষুধ তৈরি হয়নি, …

Translate »